বিপদে মাথা ঠান্ডা রেখে যে ভাবে কাজ করেন সফল মানুষেরা ( টিপস )

মানুষ মাত্রই নিজের আবেগ অনুভূতি দ্বারা কাবু। ছয় রিপুর একটি হচ্ছে রাগ ও ক্রোধ। যেটা আসে এবং পরিচালিত করে মানুষকে মানসিক চাপের দিকে। কেবল সাধু-সন্ন্যাসীরাই হয়তো এখান থেকে একটু হলেও দূরে। কিন্তু প্রতিটা দিন কত-শত ব্যাপারই তো ঘটে। কী করে নিজের রাগ, চাপ এগুলোকে সামলে চলা যাওয়া সম্ভব তাহলে? নিশ্চয় ভাবছেন একটু রাগ বা মানসিক চাপের প্রয়োজন প্রত্যেকের জীবনেই তো রয়েছে। হ্যাঁ! আছে। কিন্তু সেটা একই সাথে নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল শেখারও দরকার আছে। ভাবছেন রাগ বা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ? সেটা কী করে সম্ভব? আসুন জেনে নিই সফলদের এই কৌশলগুলোর কথা আর তাদেরকে অনুকরণ করে একটু হলেও ঝামেলাপূর্ণ পরিস্থিতিতে শান্ত রাখি নিজেদেরকে।

১. ইতিবাচক ভাবনা

সফল মানুষেরা কখনোই নিজের কাজ নিয়ে নেতিবাচক চিন্তা মনে রাখেন না। তারা এটা ভাবেন না যে কত বেশি অসম্ভব আর কঠিন কাজ রয়েছে সামনে। বরং তারা ভাবেন সামনে যে কাজই থাকুক না কেন সেটা করার মতো শক্তি আর সামর্থ্য রয়েছে তার। প্রথম থেকেই অতিরিক্ত চিন্তাকে মনে প্রশ্রয় না দিয়ে তারা ভাবতে থাকেন কতটা শিখতে পারা যাবে পরবর্তী কাজের মাধ্যমে।

২. খাবার বাছাই

মানুষ অতিরিক্ত খাবার গ্রহন করলে তার ভেতরে এক ধরনের তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব কাজ করে। আর তাই অতিরিক্ত খাবার গ্রহন থেকে বিরত থাকতে চেষ্টা করেন সফল মানুষেরা। অন্যথায় এই তন্দ্রাচ্ছন্নভাব তাদেরকে সামনের কাজ সম্পর্কে নিস্তেজ ও একই সাথে সেটা সময় মতো না করতে পারার চিন্তায় ভীত করে তুলতে পারে। অনেকেই কাজে মনযোগ দিতে কফি পান করেন। কিন্তু এই কফি পান করা অনেক সময় মানুষের জন্যে হয়ে পরে ক্ষতিকর। কারণ এতে করে মানুষের মস্তিষ্কের সেই অংশগুলোই বেশি জেগে ওঠে যেগুলো সে করতে চায় বা যেগুলো নিয়ে ভাবতে চায়। ফলে চাপা পড়ে যায় কাজের চিন্তা। জমে যায় কাজ আর বাড়তে থাকে চিন্তা ও চাপ।

৩. কৌতুক করা

সফলরা অনেক ঝামেলার ভেতরেও নিজেদের রসবোধ ভোলেন না। করেন অনেক কৌতুক। হাসেন প্রচুর। অন্যদেরকেও হাসান। এটা এজন্য নয় যে তিনি ভয় পাচ্ছেন না বা পরিস্থিতির চাপ তার ওপর কাজ করছে না। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে হাসি আমাদের শরীরে এমন এক ধরনের হরমোন নিঃসরন করে যেটা আমাদের মানসিক চাপ কমিয়ে দেয়।

৪. শত্রু চিহ্নিত করা

ঝামেলাপূর্ণ পরিস্থিতিতে মানসিক চাপ দূরে রাখার প্রথম উপায় হচ্ছে চাপ আসে এমন ব্যাপারগুলোকে চিহ্নিত করা। সফল মানুষেরাও ঠিক তাই করেন। তারা তাদের সমস্যাগুলোর ভেতরে থাকা দূর্বলতাগুলোকে বের করে সেটাকে সমাধান করার পথ খোঁজেন। ফলে মানসিক চাপও কমে যায় তাদের। কারন তারা জানেন ঠিক কি করে সমস্যার মোকাবেলা করা যাবে।

৫. সময় নেওয়া

সফল মানুষেরা খুব বেশি সমস্যা বা মানসিক চাপে ভুগলে সেই ব্যাপার থেকে নিজেকে পুরোপুরি অন্যদিকে সরিয়ে ফেলেন আর মন দেন অন্য কোন কাজে। হতে পারে সেটা একটু হেঁটে আসা কিংবা বই পড়া অথবা মুভি দেখা। কিংবা একটু ঘুমিয়ে নেওয়া। নিজেদেরকে কিছুটা সময় দেন তারা আর মনকে শান্ত করে আবার বিচক্ষণতার সাথে আগের সমস্যাটির মুখোমুখি হন।

৬. মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা

শান্ত থাকার ব্যাপারটি অনেকটা প্রাকৃতিক হলেও মানুষেরও অনেকটা হাত থাকে এর ওপর। কেউ যদি আয়নার সামনে গিয়ে নিজেকে দশবার বলে, ‘আমি ভালো আছি’। আমার কোন সমস্যা নেই। তাহলে একটু হলেও তার মুখে হাসি ফোটে। মনে হয় সে ভালো আছে। আর এই জিনিসটিকেই কাজে লাগান সফলরা। নিজেদেরকে মানসিকভাবেই প্রস্তুত রাখেন তারা সামনের পরিস্থিতির জন্যে।

৭. পরিকল্পনা করা

সফল মানুষেরা ঝামেলাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নিজেদের সব চিন্তাকে পুরোপুরি ভেঙে ফেলে পুরোপুরি অন্যভাবে ভাবার চেষ্টা করেন। অন্য কোন মানুষের দিক দিয়ে। কেবল তাই নয়, দরকারে অন্যের সাহায্য চাইতেও দ্বিধা করেন না তারা। আর এই কথাটা তো সবাই জানে যে একজন মানুষ যেখানে অনেকটাই অসহায় দুজন সেখানে হাজারগুণ বেশি শক্তিশালী। আপনার পেছনে বিপদে আর কেউ থাকলে পুরোটা না হলেও কিছুটা চাপমুক্ত আপনি থাকবেনই। আর তাই বিপদের সময় সবার সাথে মিলে লক্ষ্য ঠিক রেখে পরিকল্পনা করেন তারা। হয়তো আগের মতো করেই। হয়তো একেবারেই নতুনভাবে।

Comments