বাজেরিগারেদের মাঝে নানা রকমের রোগ দেখা দেয়। বাংলাদেশে পাখির চিকিৎসক অনেক কষ্টে পাওয়া যায়, যার ফলে কোন অসুখ দেখা দিলে তাদেরকে বাঁচানো হয়তো কষ্টকর হয়ে যায়।
রোগের প্রতিরোধ করবো কেমনে?
Prevention is Better than Cure বলে একটা কথা আছে। একটা রোগের প্রতিরোধ করতে পারলে চিন্তা কম করতে হয়, তাই আমাদের চেষ্টা করতে হবে সব রকমের রোগের প্রতিরোধ করার।
০১. আপনার পাখিকে ফুটানো পানি খেতে দিবেন।
০২. তাদের খাবার ও পানির বাটি সপ্তাহে অন্তত ১ বার ভাল করে ধুয়ে দিবেন গরম পানিতে।
০৩. তাদের খাচা পরিষ্কার রাখবেন সবসময়ে।
০৪. তাপমাত্রা ২২ থেকে ২৫ Degree Celcius এ রাখার চেষ্টা করবেন।
০৫. অতিরিক্ত গোসল করাবেন না।
০৬.খাবার ও পানি প্রতিদিন পরিবর্তন করবেন।
০৭. বিনা কারনে পাখিকে কোন ওষুধ খাওয়াবেন না। অনেকের অভ্যাস আছে পাখিকে প্রতি মাসে মাল্টিভিটামিন আর আরো নানান প্রকৃতির ওষুধ খাওয়ানো। এটা করলে পাখির উপকারের চেয়ে বেশী ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। পাখি তার শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি তার খাবার থেকেই সংগ্রহ করে। প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে যদি ৪ দিন পাখি কে এগফুড খাওয়াতে পারেন, তাহলে পাখি সুস্থ থাকবে আর কোন ওষুধ ও দিতে হবে না।
০৮. প্রতি মাসের প্রথম এবং তৃতীয় সপ্তাহে ৫ দিন এক চা চামচ Apple Cider Vinegar ১ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়াবেন।
০৯. নতুন পাখি কিনলে সবসময়ে ১ থেকে ১.৫ মাসের জন্য Quarantine করবেন।
Quarantine কাকে বলে?
হয়তো আপনার ঘরে ১ জোড়া বাজেরিগার আছে, এবং আপনার এখন আরেকটা নতুন বাজেরিগার কেনার ইচ্ছা হলো।
পাখিদের অনেক রোগ ছোঁয়াচে হয়, তাই কোন নিশ্চয়তা নেই যে আপনার কেনা নতুন বাজেরিগারের মধ্য কোন রোগ আছে যেটা সে আপনার সুস্থ বাজেরিগারের জোড়াকে দিয়ে দিতে পারে।
বাজেরিগারদের রোগ দেখা দিতে অনেক সময়ে ১ থেকে ২ মাস সময় লাগতে পারে, তো যদিও আপনি একটা নতুন সুস্থ পাখি খুজে কিনে নিয়ে আসেন, এটার কোন নিশ্চয়তা নাই যে সে ১ মাসের মধ্য অসুস্থ হয়ে পরবে না।
তাই নতুন পাখি ঘরে আনলে তাদেরকে কমপক্ষে ১ থেকে ১.৫ মাস আলাদা খাচায়, অন্য পাখিদের থেকে অনেক দূরে রাখা উচিত। তাহলে নতুন পাখি থেকে আপনার পুরনো সুস্থ পাখিদের গায়ে কোন ছোঁয়াচে রোগের আক্রমন হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এমন কি বাজেরিগারদের কিছু কিছু রোগ মানুষের মাঝেও ছড়াতে পারে!
এই কারনে নতুন পাখিকে আলাদা করে রাখা কে Quarantine করা বলা হয়।
পাখির ওষুধ নিমতলিতে পাওয়া যায়।
Apple Cider Vinegar
Apple Cider Vinegar পাখির জন্য অনেক উপকার করে, এমনকি মানুষের জন্য ও অনেক উপকারি এই জিনিস।
Diabetes প্রতিরোধে সাহায্য করে এই Apple Cider Vinegar, এবং পেটের acidity level বাড়িয়ে দিয়ে হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয়।
Apple Cider Vinegar এর আরো বহু গুন আছে।
এটা আপনি ১ চা চামচ প্রতি ২৫০ ml পরিমাণ পানিতে মিশিয়ে আপনার পাখিদের দিতে পারেন। পরে ফ্রিজে রেখে তার পরের দিন ব্যাবহার করতে পারেন।
Apple cider Vinegar সুপারমারকেটে পাওয়া যায়, যেমন Almas, Meena Bazaar, Agora. এর দাম ২০০ টাকার বেশী হয়।
Aloe Vera
Aloe Vera একটা গাছের নাম। এই গাছের পাতার ভেতরের Gel এর অনেক উপকার আছে। পাখিদের গায়ে পোকা হলে, বা কেটে গেলে Aloe Vera Gel লাগাতে পারবেন। তাদের ঠান্ডা লাগলে, চুলকানি হলে, পেট খারাপ হলে আপনি Aloe Vera ব্যাবহার করতে পারবেন।
Aloe Vera এর পাতার উপরের অংশটি ছিলে উঠিয়ে ফেললে তার ভেতরের Gel টা একটা চামচ দিয়ে উঠিয়ে বের করা যাবে। এই Gel টা উপকারি। এটাকে আপনি তাদের পানির সাথে মিশিয়ে দিতে পারেন, এবং আপনিও খেতে পারেন।
কিছু সাধারন রোগ
Cold (ঠান্ডা)
পাখিদের ঠান্ডা লাগাটা স্বাভাবিক। তাদের ঠান্ডা লাগলে নাক থেকে সর্দি পরবে, বা গা ফুলিয়ে চুপচাপ বশে থাকবে। এতে সাধারনত ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
ঠান্ডা লাগলে পাখিকে গরম আবহাওয়ায় রাখার ব্যাবস্থা করবেন। সূর্যের আলো তে রাখতে পারেন ২ ঘন্টা, অথবা খাচার পাশে ৬০ ওয়াটের বাল্ব জ্বালিয়ে রাখবেন।
Diarrhea (পেট খারাপ)
খাবার বা bacteria এর কারনে পাখিদের পেট খারাপ হতে পারে, তাই পাখিদের পরিষ্কার খাচায় রাখা অনেক জরুরি।
পেট খারাপ হলে তাদের পায়খানা পাতলা হবে, পানির পরিমান বেশী থাকবে।
পেট খারাপ হলে সাধারনত ESB 30%, Renamycine খাওানো হয় ৩-৫ দিনের জন্য, এবং শাখ-সবজি দেয়া বন্ধ রাখতে হয়।
তার সাথে পাখিকে সেলাইন দেয়া উচিত, যেমন Glucolyte বা Electrolyte।
Psittacosis (সিটাকোসিস)
এই রোগ হলে মনে হয় পাখির ঠান্ডা লেগেছে, কিন্তু এই রোগ পাখির অনেক ক্ষতি করে, এবং ঠিকমত চিকিৎসা না করলে পাখি মারা যেতে পারে।
এই রোগ হয় Chlamydia bacteria থেকে, যা পায়খানা, পানি, খাবার থেকে ছড়াতে পারে।
এইটা একটা ছোঁয়াচে রোগ, তাই একটা পাখির এই রোগ হলে তাকে সাথে সাথে অন্য পাখির কাছে থেকে আলাদা করে দেয়া উচিত, এবং সব পাখিদের ১ সপ্তাহের জন্য ওষুধ দেয়া উচিত।
এই রোগ হলে পাখির নাক থেকে অনেক সর্দি পরবে, চেহারায় সর্দি লেগে থাকবে, লেজ উঠা-নামা করবে, পাখি হয়তো গা ফুলিয়ে বসে থাকবে, পাইখানার রং হালকা সবুজ হবে এবং সাধারনত তার নিঃশ্বাস এর সাথে একটা শব্দ হবে।
সাধারনত Tylodox নামের ওষুধ দেয়া হয়।
এবং এই অসুখ দেখা দিলে পাখি সুস্থ হওয়ার পরেও তাকে অন্তত ৩ সপ্তাহ Quarantine করে রাখা উচিত।
Comments
Post a Comment